বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামের মিলি আক্তার, বয়স ৩৪ বছর, কিন্তু উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি। জন্মের পর থেকে শারীরিক বৃদ্ধি থেমে গেলেও তাঁর স্বপ্ন থেমে নেই। নিজের একটি ঘর, একটি গরু, একটি ছাগল এবং দোতলায় ওঠার ইচ্ছা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
মিলির বাবা নজরুল ইসলাম পরিবার ছেড়ে চলে যান জন্মের আগেই। তাঁর মা ফরিদা ইয়াসমিন জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে চলে যান যখন মিলির বয়স দুই বছর। প্রায় ২৭ বছর পর দেশে ফিরে এসে তিনি দেখেন, মেয়ের বয়স বেড়েছে, কিন্তু উচ্চতা বাড়েনি।
মিলির চাওয়া খুবই সামান্য। মাঝে-মধ্যে তিনি মাকে প্রশ্ন করেন, “আমাদের ঘরটা এত ছোট কেন? দোতলা ঘর হবে কবে?” তবে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটেনি। মিলি নিজের দৈনন্দিন কাজ নিজেই করার চেষ্টা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান।
মিলির মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মিলিকে গর্ভে রেখে ওর বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যান। অনেক কষ্ট করে বড় মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে বিয়ে দিয়েছি, কিন্তু মিলির জন্য ভালো চিকিৎসা কিংবা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারিনি।”
বর্তমানে পরিবারটির একমাত্র সম্বল ৪২ শতক জমির ওপর বসতভিটা। ফরিদা জানান, সরকারি সহায়তা হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতাই তাঁদের ভরসা। উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা কায়কোবাদ আকুঞ্জী বলেন, মিলির চলাচলে প্রয়োজন হলে দ্রুত একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, মিলি বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন এবং সরকারের অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।